ক্বাবায় রহস্যময় পাথর, যার কারণে প্রচণ্ড রোদেও ঠাণ্ডা থাকে ফ্লোর

ডেস্ক রিপোর্ট
আপডেটঃ নভেম্বর ৭, ২০২২ | ১১:২৭
ডেস্ক রিপোর্ট
আপডেটঃ নভেম্বর ৭, ২০২২ | ১১:২৭
Link Copied!
ক্বাবায় রহস্যময় পাথর, যার কারণে প্রচণ্ড রোদেও ঠাণ্ডা থাকে ফ্লোর

হজ বা ওমরাহ পালনকারীরা নিশ্চয়ই বিস্ময়ের সঙ্গে অনুভব করেছেন মরু অঞ্চলের প্রচণ্ড রৌদ্রতাপের মধ্যেও মক্কার পবিত্র কাবা শরীফের চারপাশ এবং গ্র্যান্ড মসজিদের মেঝে ভীষণরকম ঠাণ্ডা থাকে। যখন হজ বা ওমরাহ পালনকারীরা এই মেঝের ওপর দিয়ে হেঁটে চলেন ঠাণ্ডার স্পর্শ নিশ্চয়ই তাদের বিস্মিত করে। আবহাওয়া যতই উষ্ণ থাকুক না কেন এই মেঝেতে হাঁটতে একরকম প্রশান্তি বয়ে বেড়ায়। কিন্তু এই ঠাণ্ডার রহস্য কোথায়?  

 

কাবা শরীফের চারপাশের মেঝের জন্য গ্রিস থেকে আনা বিরল থাসোস এই মার্বেল পাথরের বিশেষ গুণ হচ্ছে, তা সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে তাপও শুষে নিতে পারে। এছাড়াও এই মার্বেল পাথরের নিচে রয়েছে পানির নালা। যা বালির মধ্যে দিয়ে পানি প্রবাহিত করে নিচে ভিজিয়ে রাখে। যার ফলে এই মেঝে ঠাণ্ডাই থাকে। সৌদি আরবের শুষ্ক তাপমাত্রা এবং গরমের মধ্যেও অনুভূত হওয়া এই রহস্যময় পাথর সম্পর্কে বিস্তারিত দেখুন প্রতিবেদনে… 

বিজ্ঞাপন

 

হারামাইন (মক্কা-মদিনা) সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ভার দেওয়া হয়েছিল মিশরীয় স্থপতি ড. মোহাম্মাদ কামাল ইসমাইলের ওপর। তিনি চেয়েছিলেন, তাওয়াফকারীদের আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য মসজিদুল হারামের মেঝে এমন মার্বেল পাথর দিয়ে ঢেকে দিতে- যার বিশেষ তাপ শোষণ ক্ষমতা রয়েছে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর এরকম মার্বেল পাথরের সন্ধান পাওয়া যায় গ্রিসের ছোট্ট একটি পাহাড়ে। আর কোথাও এ ধরনের মার্বেলের মজুদ পাওয়া যায়নি। স্থপতি কামাল ইসমাইল গ্রিসে গিয়ে পর্যাপ্ত মার্বেল কেনার চুক্তি সই করে মক্কায় ফিরে আসেন। যথাসময়ে সাদা মার্বেলের মজুদও চলে আসে এবং সেগুলো দিয়েই বিশেষ নকশায় মসজিদুল হারামের মেঝের কাজ সম্পন্ন হয়।

 

বিজ্ঞাপন

ওই ঘটনার ১৫ বছর পরে সৌদি সরকার কামাল ইসমাইলকে আবারো তলব করে এবং বলা হয়, মদিনার মসজিদে নববীর চারপাশের চত্বরও একইভাবে সাদা মার্বেল দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এমন অবস্থায় ড. মোহাম্মাদ কামাল ইসমাইল মনের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নিয়ে আবার গ্রিসে গেলেন। তার জানা ছিল না, আদৌ ওই সাদা মার্বেল পাথর অবশিষ্ট আছে কি না। গ্রিসে গিয়ে ওই পাহাড় কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি জানতে চান, পাহাড়ের আর কতটুকু অবশিষ্ট আছে? কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৫ বছর আগেই পাহাড়ের বাকি অংশটুকু বিক্রি হয়ে গেছে।

 

এই কথা শুনে বিমর্ষ কামাল ইসমাইল হাতে থাকা কফি পর্যন্ত শেষ করতে পারেননি। পরের ফ্লাইটেই মক্কায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ওই কোম্পানির অফিস থেকে বেরিয়ে আসার আগে বাকি মার্বেল পাথর যিনি কিনেছিলেন, তার নাম-ঠিকানা জানতে চান। জবাবে জানানো হয়, ১৫ বছর আগের লেনদেন পাওয়া দুষ্কর। তবে পেলে জানাবে বলে কথা দেয়।

 

পরদিন তাকে ফোন দিয়ে জানানো হলো, সেই ক্রেতার নাম-ঠিকানা খুঁজে পাওয়া গেছে! নিরাশ মনে আবারও সেই অফিসের দিকে যাত্রা করেন তিনি। ঠিকানা হাতে পেয়ে তার হার্টবিট বেড়ে যায়। কেননা কাগজের হিসেবানুযায়ী ওই ক্রেতা একটি সৌদি কোম্পানি! স্থপতি কামাল ইসমাইল সেদিনই সৌদি আরবে ফিরে যান। ক্রেতা কোম্পানির এমডির সাথে দেখা করে জানতে চাইলেন, ১৫ বছর আগে গ্রিস থেকে কেনা সেই মার্বেল পাথর দিয়ে তারা কী করেছেন। এমডি প্রথমে কিছুই মনে করতে পারলেন না। পরে খোঁজ খবর নিয়ে দেখা গেল সেই সাদা মার্বেলের পুরোটাই স্টকে পড়ে আছে, কোথাও ব্যবহার করা হয়নি!

আরো পড়ুন:  ওমানে আসছে আরো ৫ মিলিয়ন করোনা ভ্যাকসিন

 

এ পর্যন্ত শুনে কামাল ইসমাইল সেখানেই শিশুর মতো কাঁদতে শুরু করেন। এমডি তার কান্নার কারণ জানতে চাইলে তিনি পুরো ঘটনা খুলে বলেন। পরে ড. কামাল ওই কোম্পানিকে সৌদি সরকারের পক্ষে একটি খালি (ব্ল্যাংক) চেক দিয়ে ইচ্ছেমত অংক বসিয়ে নিতে বলেন। কিন্তু কোম্পানির মালিক যখন জানলেন, এই সাদা মার্বেল পাথর মসজিদে নববীর চত্বরে বসানোর জন্য ব্যবহৃত হবে, তখন তিনি ওই চেক নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং বলেন, আল্লাহই আমাকে দিয়ে এটা কিনিয়েছিলেন, আবার তিনিই আমাকে এর কথা ভুলিয়ে দিয়েছেন। এই মার্বেল পাথর রাসুল সা.এর মসজিদের উদ্দেশ্যেই এসেছে! তারপর সেই পাথর দিয়ে মসজিদে নববীর চত্বরও মুড়ে দেওয়া হয়।

 

স্থপতি ড. মোহাম্মাদ কামাল ইসমাইল (১৯০৮-২০০৮) ইসলামি আর্কিটেকচারের উপর তিনটি ডক্টরেট ডিগ্রিপ্রাপ্ত প্রথম মিশরীয় প্রকৌশলী। শতবর্ষী এই স্থপতি তার কর্মজীবনের প্রায় পুরোটা সময় মক্কা ও মদিনার দুই মসজিদের সেবায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু এর জন্য কোনো ধরনের পারিশ্রমিক তিনি গ্রহণ করেননি। সৌদি বাদশাহ ফাহাদ এবং বিন লাদেন গ্রুপের সুপারিশ কাজে আসেনি। তাদের মোটা অংকের চেক ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি অবলীলায়। তার প্রশ্ন ছিল, এই দু’টি পবিত্র মসজিদের কাজের জন্য পারিশ্রমিক নিলে শেষ বিচারের দিনে আমি কোন মুখে আল্লাহর সামনে গিয়ে দাঁড়াব?

 

মসজিদে হারামের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত জেনারেল এক্সট্রেশন ডিরেক্টর মহসিন সালমি জানান, ৪০ জন প্রযুক্তিবিদ ও ইঞ্জিনিয়ারের উপস্থিতিতে প্রতিদিন মাতাফ প্রাঙ্গণের মার্বেলের গুণাগুণ পরীক্ষা করা হয়। কাবা শরিফের চত্বরে লাগানো এ দামি মার্বেল পাথরের টাইলসের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এ পাথর অতিরিক্ত আলো ও তাপ শোষণের ক্ষমতা রাখে। অনেক ব্যয়বহুল এ দামি পাথর শুধু কাবা শরিফ ও মসজিদে হারামের জন্যই আমদানি করা হয়ে থাকে বলেও জানান মহসিন সালমি।


আরো পড়ুন:

সৌদি থেকে বাংলাদেশে এলো প্রবাসী হারুনের ‘লাশের টুকরো’

প্রায় ২০ লাখ পিস ইয়াবাসহ সৌদিতে বাংলাদেশিসহ গ্রেফতার ৯

১৪ লাখ কর্মী নিবে কানাডা, মিলবে স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ

ইত্যাদি পার্টি, মুসকিল লীগ, গরীব পার্টি ইসির নিবন্ধন চায়

প্রবাসে মারা গেলে সরকারিভাবে মরদেহ আনবেন যেভাবে


আরো দেখুনঃ

শীর্ষ সংবাদ:
ইসলামি গানের মডেল হলেন মিশা সওদাগর মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম দেশ হিসেবে কাল চাঁদে যাচ্ছে আমিরাত ঢাকায় বসছে আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা, অংশ নেবে ওমান হেলিকপ্টারে করে প্রবাসীকে হাসপাতালে নিল ওমানের বিমান বাহিনী গুজবে কান না দিতে প্রবাসীদের আহ্বান জানালো দূতাবাস ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে নতুন নির্দেশনা জারি করলো ওমান নিখোঁজ হওয়ার ২ মাস পর লাশ উদ্ধার করেছে ওমান পুলিশ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বগুড়ায় বিমানের জরুরি অবতরণ ‘চুরির অভিযোগে দুই হাত কেটে ফেলবে সৌদি পুলিশ, দ্রুত টাকা পাঠাও’ দুবাইয়ে হচ্ছে ১০২ তলা ‘শহর’ মরু এলাকায় তুষারপাত ঘটিয়ে তাক লাগিয়ে দিলেন প্রিন্স সালমান বিকাশ-রকেটে সরাসরি রেমিট্যান্স আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ওমানের মাস্কাট বিমানবন্দরে গাঁজাসহ দুই প্রবাসী গ্রেপ্তার বাড়ি লিখে না দেওয়ায় স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করল স্ত্রী ওমান উপসাগরে ট্যাংকারে হামলা: অভিযোগ অস্বীকার ইরানের খেলা নিয়ে তর্ক, আর্জেন্টিনার সমর্থককে খুন চোরাচালানের মাধ্যমে প্রতিদিন ২০০ কোটির সোনা আসছে দেশে কাতার রাজপরিবারের সম্পদ দেখে অবাক বিশ্ব মরুর সৌন্দর্যে মুগ্ধ পর্যটকরা, আরব অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা বিনা খরচে সরকারীভাবে কর্মী যাচ্ছে মালয়েশিয়া